ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪-এর ২৬ আগস্ট আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন এবং ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের দাবি জানান নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল শাখা সভাপতি রাহাত জামান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহাগ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে অবস্থানরত সচেতন শিক্ষার্থীদের কোনো উসকানি ছাড়াই অযৌক্তিকভাবে কতিপয় দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, শাবিপ্রবি শাখার কিছু সহযোগী মিলে জোরপূর্বক হল ত্যাগে বাধ্য করে। উক্ত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র নামধারী কুচক্রীদের যথাযথভাবে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, ২৬ আগস্ট কতিপয় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা মিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে আবাসিক হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছিল। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কালো অধ্যায়। এই ঘটনায় যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমরা তাদের বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে শাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, ‘ছাত্রদল আজকে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে যে অভিযোগ ও মিথ্যাচার করেছে তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হলগুলোতে ছাত্রলীগের একটি অংশ হল গুলোতে সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে হল ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সমন্বয়কদের অনুরোধে হল ত্যাগ করতে বলা হয়। সে সময় বর্তমান উপ-উপাচার্যও স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে ছাত্রদল আমার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এবং তারা ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ২৬ আগস্ট শাবিপ্রবির আবাসিক হলে ছাত্রলীগের দোসর রয়েছে এমন অভিযোগ এনে হল ছাড়তে দফায় দফায় আলটিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর তোপের মুখে আবাসিক হল ছাড়তে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা। ঐ সময় প্রশাসনিক শূন্যতায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন নিয়োগ হলে শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে মেধা ও আর্থিক সংকট বিবেচনায় হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








